গত ৫৪ বছরে সংবিধানের যেসব ধারা ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে, সেগুলোর আমূল সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সংবিধান বাতিল নয়, বরং বিতর্কিত ধারাগুলোর সংস্কারের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ করতে হবে।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের অষ্টম দিনে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের আনা এক মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কখনো সংবিধান ছুঁড়ে ফেলার কথা বলিনি। আমরা শুধু সেই ধারাগুলোর সংস্কার চাই, যা বারবার ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে। আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই।’
সরকারি দলের এক সদস্যের ‘কিলিং কালচার’ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তার দলের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’-এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে এবং বহু কর্মী ‘এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং’-এর শিকার হয়েছেন।
ফ্যাসিবাদের উৎপত্তি প্রসঙ্গে তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেদিন পল্টনে সহিংসতার মাধ্যমে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, যা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো সংঘাত নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা গণঅভ্যুত্থান, গণভোট ও সংস্কার পরিষদের ধারণাকে সমর্থন করেন। তবে অপ্রয়োজনীয় বিরোধ সৃষ্টি না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব অধ্যাদেশ নিয়ে গঠিত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত। প্রতিবেদন দেখে সংসদে সুষ্ঠুভাবে আইন প্রণয়নে অংশ নিতে চায় বিরোধী দল।
সংসদে পারস্পরিক দোষারোপ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই সংসদ কারও চরিত্রহননের জায়গা নয়, বরং জাতিকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার স্থান। একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।