শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বরে সৃজনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো সৃজন আয়োজিত সাপ্তাহিক পাঠচক্র। কিছুদিনের বিরতির পর আবারও প্রাণ ফিরে পেল এই নিয়মিত সাহিত্য আয়োজন। বিকেলের নরম আলোয় ভরা ঘরটিতে একত্রিত হন কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীরা। সেখানে তৈরি হয় শব্দ, ভাবনা ও অভিজ্ঞতার আন্তরিক বিনিময়ের এক আবহ— যেন সাহিত্য নিজেই নিঃশব্দে আসন গেড়েছিল। আয়োজনের শুরুতেই সৃজন থেকে প্রকাশিত গবেষক, গল্পকার ও কবি আনোয়ারুল হক-এর গল্পগ্রন্থ ‘অসুখ গভীর গভীরতর’ নিয়ে আলোচনা করেন কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ বাসার। তিনি বলেন, বইটির গল্পগুলো এমন দক্ষতায় রচিত, যা জীবনের ও সমাজের নেতিবাচক দিকগুলোকে ইতিবাচক ও কাঙ্ক্ষিত জীবনের দিকে টেনে নিয়ে যেতে চায়। আলোচনায় তিনি কয়েকটি মনোগ্রাহী উদাহরণ তুলে ধরেন, যা উপস্থিত পাঠক-শ্রোতাদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। এরপর লেখক আনোয়ারুল হক নিজেই তাঁর গল্পলেখার অনুপ্রেরণা ও বিষয়বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোনো অপরাধের জন্য তিনি কেবল একজন মানুষকে দায়ী করতে চান না; বরং দেখাতে চান— কে বা কারা তাকে সেই অপরাধের পথে ঠেলে দিয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর গল্পে সামাজিক অন্তর্গভীরতাকে আরও অর্থবহ করে তোলে। পাঠচক্রের পরবর্তী পর্বে ছিল কবি তৌহিদ আহাম্মেদ লিখন-এর স্বরচিত কবিতাপাঠ। একাধিক কবিতা পাঠ করে তিনি শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। পরে কবি আকেল হায়দার, কবি ও সম্পাদক জুননু রাইন, কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ বাসার, গবেষক আনোয়ারুল হক, কবি ও শিল্পী দেওয়ান আতিকুল রহমান এবং কবি-প্রাবন্ধিক ওয়াহিদ জামান লিখনের কবিতা নিয়ে নিজ নিজ মূল্যায়ন ও মন্তব্য তুলে ধরেন। এই পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ফরিদুল ইসলাম নির্জন, কবি ও পাখি বিশেষজ্ঞ শেখ আহমেদ ফরহাদ, গবেষক ও ফটোসাংবাদিক সুদীপ্ত সালাম, সাংবাদিক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মো. আমিনুল ইসলাম, অডিও-ভিজ্যুয়াল বিশেষজ্ঞ আবু নাঈম ত্রিদিব, লেখক ও অনুবাদক মেজবাহ উদ্দিনসহ আরও অনেকে। দিনের আলোচনায় সমকালীন সাহিত্যচর্চার গতিপ্রকৃতি, ভাষা ও বিষয়বস্তুর পরিবর্তন এবং সমাজ বাস্তবতার ভেতর সাহিত্যিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন উঠে আসে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে কবিতা, গল্প ও গানের মৃদু সুরে ভরে ওঠে পরিবেশ। উপস্থিত সবাই একমত হন— সৃজনের এই পাঠচক্র কেবল একটি সাপ্তাহিক আয়োজন নয়; এটি এক আত্মিক পুনর্মিলনের জায়গা, যেখানে শব্দ হয়ে ওঠে বন্ধন আর ভাবনা হয়ে ওঠে আলো।
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোর ৬টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরায় জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তাঁর মেয়ে অঞ্জনা বড়ুয়া গণমাধ্যমকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে সুকুমার বড়ুয়া চট্টগ্রামের একটি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি ছিলেন। শুক্রবার তাঁকে জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়। ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস...
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোর ৬টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরায় জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তাঁর মেয়ে অঞ্জনা বড়ুয়া গণমাধ্যমকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে সুকুমার বড়ুয়া চট্টগ্রামের একটি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি ছিলেন। শুক্রবার তাঁকে জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়। ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস...
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি–বাংলাদেশের (এআইইউবি) ইংরেজি বিভাগের উদ্যোগে এবং টিইএসওএল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সহযোগিতায় ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক দিনব্যাপী এক শিক্ষার্থী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীতে অবস্থিত এআইইউবি ক্যাম্পাসে আয়োজিত ‘ডিসকভার ইংলিশ ২০২৫: স্টুডেন্ট কনফারেন্স অন ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড লিটারেচার’ শীর্ষক এই সম্মেলনে স্নাতক, স্নাতকোত্তর (এমএ, এমফিল) ও পিএইচডি পর্যায়ের মোট ১৮৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল—‘বাই দ্য...
বিশ্বরাজনীতি ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সাল ছিল এক অভাবনীয় রূপান্তরের বছর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ এবং একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে জাতীয়তাবাদী চেতনার পুনরুত্থান সাহিত্যকে দাঁড় করিয়েছিল এক নতুন প্রশ্নের মুখে। ঠিক এই সংকটময় সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের সাহিত্যিকেরা বেছে নিয়েছেন প্রতিবাদের, আত্মঅনুসন্ধানের এবং নতুন পরিচয় নির্মাণের পথ। ফলে ২০২৫ সালের সাহিত্য আর কেবল শব্দ ও শৈল্পিক অনুশীলনে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি হয়ে উঠেছে স্মৃতি সংরক্ষণ ও পুনর্জন্মের শক্তিশালী শিল্পভাষা। জুলাই গণ–অভ্...
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার সম্ভাবনার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন সদস্য। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) গুরুত্বপূর্ণ এই নীতিগত ইস্যুতে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে তারা দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে একটি চিঠি দেন। দলের যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।