২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে উত্তরার উত্তরখান এলাকার বজলুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ। বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সন মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ১১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১১১ জন শিক্ষার্থীর সবাই পাস করায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ১০০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া ৫৯ জন শিক্ষার্থী মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর ৫৩ দশমিক ১৫ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৮৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৫৪ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। অন্যদিকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিল ২৮ জন, যার মধ্যে ৫ জন সর্বোচ্চ ফলাফল জিপিএ-৫ পেয়েছে।
ফলাফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাসে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কৃতী শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা একত্র হয়ে এই সাফল্য উদযাপন করেন। শিক্ষার্থীদের সাফল্যে অভিভাবকরাও সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং প্রতিষ্ঠানের পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষক ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন।
প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নিবিড় যোগাযোগ, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার সমন্বিত ফল হিসেবেই এবারের এই সাফল্য এসেছে। শতভাগ পাসের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানের ধারাবাহিকতার প্রতিফলন বলে মনে করছেন তারা।
বজলুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের এই সাফল্যের পেছনে প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এনামুল হাসান খান (সিআইপি)-এর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার প্রতি তাঁর আগ্রহ, পরিকল্পনা ও উদ্যোগে উত্তরখান এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এই সাফল্য তাদের জন্য নতুন নয়। ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৬ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে উত্তরা শিক্ষাজোনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে বজলুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এছাড়া ২০২৬ সালের জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে উত্তরা শিক্ষাজোনে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন প্রতিষ্ঠানের সৈয়দা শায়লা শারমিন।
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক ভালো ফলাফল তাদের আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও শিক্ষার মান ধরে রেখে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে ভালো ফলাফলের জন্য প্রস্তুত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা।