সাভারে সাসের RAISE প্রকল্পের চাকরি মেলা

ফাহাদ বিন বেলায়েত
সাভারে সাসের RAISE প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত চাকরি মেলা উদ্ভোধন করেন অতিথিরা। ছবি: দৈনিক নতুনচাঁদ
সাভারে সাসের RAISE প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত চাকরি মেলা উদ্ভোধন করেন অতিথিরা। ছবি: দৈনিক নতুনচাঁদ

দক্ষতা অর্জনের পর কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে সোশ্যাল আপলিফটমেন্ট সোসাইটি (সাস) বাস্তবায়িত রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (RAISE) প্রকল্পের উদ্যোগে সাভারে  বাগানবাড়ী রেস্টুরেন্টে দিনব্যাপী  চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় আয়োজিত এ মেলায় শতাধিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ-তরুণী অংশ নেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা চাকরিপ্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) গ্রহণ করেন এবং সরাসরি সাক্ষাৎকার নেন। ফলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানমের প্রতিনিধি হিসেবে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) জাবের মো. সোয়াইব। মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর মহাব্যবস্থাপক (কার্যক্রম) ও রেইজ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাসের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক হামিদা বেগম। এ ছাড়া বক্তব্য দেন জাতীয় পদকপ্রাপ্ত সমাজকর্মী ও সাভার উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সালাহউদ্দিন খান নঈম।

বক্তারা বলেন, দেশের অনানুষ্ঠানিক খাতের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কর্মবাজারের সঙ্গে যুক্ত করার কার্যকর ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে রেইজ প্রকল্প প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে। চাকরি মেলার মতো উদ্যোগ তরুণদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি করার পাশাপাশি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পথও সুগম করছে।

আয়োজকরা জানান, রেইজ প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ২ হাজার ১৫১ জনকে আউটরিচ কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১ হাজার ২৫১ জন তরুণ উদ্যোক্তাকে ঋণ ও প্রশিক্ষণ, ৩০০ জন কোভিড-১৯–এ ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাকে পুনরুদ্ধার সহায়তা এবং ৮০০ জনকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭২২ জন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসা উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ঋণ সহায়তার মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে প্রকল্পটি।

রেইজ প্রকল্পের আওতায় যুক্ত মাস্টার ক্রাফটসপারসন (এমসিপি) বা গুরুরা বলেন, দীর্ঘদিনের বাস্তব কর্ম-অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারাটাই তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা অল্প সময়েই প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে কর্মক্ষেত্রের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে সক্ষম হয়েছেন। চাকরি মেলার মাধ্যমে সেই দক্ষতা সম্ভাব্য নিয়োগদাতাদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা তাদের কর্মজীবনে প্রবেশের পথ আরও সহজ করবে।

চাকরি মেলায় অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ-তরুণীরা বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ ও সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। এমন আয়োজন নিয়মিত হলে দক্ষ তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

সম্পর্কিত