জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, গণভোটের রায় খণ্ডিতভাবে গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া হলে পুরো রায়ই বাস্তবায়ন করতে হবে। নিজের দেওয়া ভোটের একটি অংশ গ্রহণ করে অন্য অংশ অস্বীকার করা যায় না।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে খুলনা প্রেসক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির নেতারা জুলাই সনদ মেনে নেওয়ার কথা বলছেন। তবে গণভোটের রায় পুরোপুরি বাস্তবায়নের বিষয়ে তাদের স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। গণভোটের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য, সাংবিধানিক পদে নিয়োগ এবং সংসদের উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, লুটপাট, দুর্নীতি, দলীয়করণ ও ভিন্নমতের ওপর হামলার কোনো স্থান নেই। ক্ষমতায় যাওয়ার পর জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে যাওয়া রাজনীতির বড় ব্যাধি। এই মানসিকতার পরিবর্তন না হলে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে চাঁদাবাজি, মাস্তানি, লুটপাট ও মাদকের বিভিন্ন সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এসব সিন্ডিকেট ভাঙতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। রাজনীতির নামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস সমাজের বড় ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার থেকে তরুণদের দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, মোবাইল ফোন বা প্রযুক্তি নিজে খারাপ নয়। পড়াশোনা, তথ্য অনুসন্ধান ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক ব্যবহার রয়েছে। তবে অনৈতিক বিষয়বস্তুতে আসক্তি তরুণদের চরিত্র নষ্ট করতে পারে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ছাত্রদলের সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা ও সংঘাতে জড়াচ্ছেন। তার দাবি, এসব ঘটনায় ছাত্রশিবির আগে হামলা করেনি; আক্রান্ত হওয়ার পর তারা প্রতিরোধ করেছে।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগের পরিবর্তে ছাত্রদল একই ধরনের দখলদারি ও হামলার রাজনীতি করলে শুধু দলের নাম পরিবর্তন হবে, চরিত্র পরিবর্তন হবে না। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এমন বাংলাদেশ কেউ চায়নি।
সরকারি বিভিন্ন পদে দলীয় পরিচয়ের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে দলীয় পরিচয়ের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঠিকাদারি, দরপত্র ও অর্থ ভাগাভাগির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
খুলনা বিভাগে জামায়াতের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়েও নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানান গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমানকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মহানগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী দিয়ে জয়ী হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগরীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি মুকাররম আনসারীর সভাপতিত্বে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।