সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু বলেছেন, জামায়াতের ধোঁকাবাজির রাজনীতির মুখোশ খুলতে শুরু করেছে। নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে ‘জান্নাতের টিকিট’ বিক্রির মতো অপকৌশল নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্ক, নারী কেলেঙ্কারি ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার কারণে জামায়াতের ওপর মানুষের আস্থা কমছে। তার দাবি, জামায়াত দেশে নির্বাচন চায়নি; বরং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছিল।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে নীলফামারী শহরের মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের মসজিদ ও একাডেমিক ভবনের সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে এমপি রানু বলেন, ওই নির্বাচনে দেশজুড়ে বিএনপির বড় ধরনের বিজয় হলেও স্থানীয় কিছু সমীকরণের কারণে এ এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন বিজয়ী হতে পারেননি।
তিনি বলেন, এতে ধানের শীষের প্রার্থীর কোনো ক্ষতি হয়নি। বরং উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এ এলাকার সাধারণ মানুষ।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
সাবেক এ সংসদ সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাজ করছেন। জনগণের সমর্থন অব্যাহত থাকলে আগামী পাঁচ বছরে দেশের আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম জানান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পরিষদের অর্থায়নে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে কলেজের অভ্যন্তরীণ মসজিদ নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে কলেজের অবকাঠামোগত সংকট অনেকাংশে দূর হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হবে।