জুলাই গণহত্যার বিচার ধীরগতি নিয়ে সংসদে ক্ষোভ এমপি রোকেয়ার

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণহত্যার বিচারকাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে বলে সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাই শহীদের মাতা ও সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম। একই সঙ্গে তিনি শহীদ পরিবার ও আহতদের সহায়তায় গঠিত ‘শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর কর্মীদের বেতন বকেয়া থাকা এবং আহতদের শ্রেণিবিন্যাসে নানা অনিয়মের অভিযোগও তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

রোকেয়া বেগম বলেন, জুলাই আন্দোলনে তার সন্তানসহ অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়া প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না, যা শহীদ পরিবারের জন্য গভীর হতাশার বিষয়।

তিনি আরও জানান, সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণহত্যার ঘটনায় ৮০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে অল্পসংখ্যক মামলার রায় হয়েছে, কিছু মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে এবং অধিকাংশ মামলা এখনো তদন্তাধীন। তিনি বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সংসদে নিয়মিতভাবে উপস্থাপনের দাবি জানান।

শহীদ ও আহতদের তালিকা প্রণয়ন নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার দাবি, শহীদের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি গেজেটভুক্ত সংখ্যার চেয়ে বেশি হলেও এখনো অনেক নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। একইভাবে আহতদের শ্রেণিবিন্যাসে জটিলতা ও বৈষম্য রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ সময় তিনি ‘শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশংসা করলেও কর্মীদের বেতন ও বোনাস বকেয়া থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ফাউন্ডেশনকে সরকারি কাঠামোর আওতায় আনার এবং বরাদ্দ দ্রুত ছাড় করার দাবি জানান।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার আইনি কাঠামোর মধ্যেই জুলাইযোদ্ধাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করছে। বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা আরও বাড়ানো হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং শহীদ পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন করা।

সম্পর্কিত