গণভোট প্রশ্নে আপস নয়: জামায়াত আমির

স্টাফ রিপোর্টার
কাকরাইলে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
কাকরাইলে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

গণভোটের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন মহল থেকে নানা প্রলোভন ও সমঝোতার প্রস্তাব এলেও তার দল সেগুলো দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের আইডিইবি মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের সম্মানে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের দাবি সরকার ও বিরোধী—উভয় পক্ষ থেকেই উত্থাপিত হয়েছিল। তবে বর্তমানে সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার থেকে জামায়াতে ইসলামী একচুলও সরে যাবে না। কোনো অবস্থাতেই জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। এখনো সময় আছে, জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখিয়ে সঠিক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দলকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করেন না এবং দলের নেতারা অতীতের মতো এখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবেন না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দেশের প্রশাসন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা, করপোরেশন এবং প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতে যোগ্য ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, যখন অনেক রাজনৈতিক দল আন্দোলনকে শুধু শিক্ষার্থীদের বিষয় হিসেবে দেখছিল, তখন জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্যে দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল। তবে আন্দোলন সফল হওয়ার পরও দলটি কখনো এর কৃতিত্ব দাবি করেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আন্দোলনের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করা হয়নি এবং শহীদের সংখ্যা ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়নি। বরং শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বিচারের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের লক্ষ্য প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। দেশের নিরীহ মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার হওয়া প্রয়োজন এবং সময় লাগলেও একদিন এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সেলিম উদ্দিন ও নূরুল ইসলাম বুলবুলসহ দলের অন্যান্য নেতারা।

সম্পর্কিত