আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসন পুনরুদ্ধারে মাঠে নেমেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তার বিপরীতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. রেজাউল করিম। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীসহ আরও কয়েকজন প্রার্থী থাকায় ভোটের হিসাব-নিকাশ জটিল হয়ে উঠেছে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-৩ সংসদীয় আসন। রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপি জয়লাভ করে। তবে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের একতরফা নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়।
এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি আবারও ভোটারদের কাছে ফিরতে চাইছেন।
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন,
“বিগত আন্দোলন ও সংগ্রামে আমরা সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম। নির্বাচনী মাঠে সাংগঠনিক তৎপরতা আরও জোরদার করেছি। একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে তা জাতির জন্য ক্ষতিকর হবে।”
অন্যদিকে, এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ড. রেজাউল করিম। ভোটারদের সমর্থন আদায়ে তিনি নতুন কৌশল গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে তিনি জোর দিচ্ছেন পরিবর্তন ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর।
ড. রেজাউল করিম বলেন,
“তরুণ প্রজন্ম ও নারী ভোটাররা নতুনত্ব চায়। তারা পরিবর্তন দেখতে চায়। আমরা বিশ্বাস করি, এবারের নির্বাচন হবে জনগণের বিজয়।”
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মুহাম্মদ ইব্রাহিম। পাশাপাশি আরও দুইজন প্রার্থী ভোটের মাঠে থাকায় ভোট বিভাজনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ও চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে এবারের নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে দেখা হচ্ছে তরুণ ভোটারদের ভূমিকা। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন—এসব বিষয় সামনে রেখে তারা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে নানা হিসাব-নিকাশ করছেন। নারী ভোটারদের অংশগ্রহণও ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের উপস্থিতিতে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ এখন বেশ টানটান ও অনিশ্চিত।