লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে রেকর্ড ব্যবধানে বিএনপির নিজানের জয়

সবুজ সাহা
 ছবি: দৈনিক নতুনচাঁদ
ছবি: দৈনিক নতুনচাঁদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে বড় জয়ের ব্যবধান সৃষ্টি করে ইতিহাস গড়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের বিএনপি প্রার্থী এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় ৪১ হাজার ৪৪৩ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যা চলতি নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর জেলায় সর্বোচ্চ ব্যবধান।

এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আশরাফ উদ্দিন নিজান পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্লাহ পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৫৬ ভোট।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে জেলাটিতে বিএনপির নিরঙ্কুশ প্রভাব আরও একবার প্রমাণিত হলো।

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে বিএনপির শাহাদাত হোসেন সেলিম ৮৫ হাজার ৪৫৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মাহবুব আলম পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৪৩৭ ভোট।

লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের আংশিক) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির আবুল খায়ের ভূঁইয়া। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী রুহুল আমিন ভূঁইয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪২ ভোট।

অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. রেজাউল করিম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৭৯ ভোট।

এর আগে লক্ষ্মীপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে চারটি আসনের চূড়ান্ত বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফলের মাধ্যমে জেলার চারটি আসনেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে বিজয় নিশ্চিত করেন।

জয়ের প্রতিক্রিয়ায় আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, প্রিয় কমলনগর-রামগতির মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা ও আস্থা দিয়েছেন, এই জয় মূলত তাদেরই জয়। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং যুব কর্মসংস্থানের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবেন। ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি, সবাইকে নিয়ে একটি উন্নত ও শান্তিপূর্ণ কমলনগর-রামগতি গড়ে তোলার অঙ্গীকারও করেন তিনি।

সম্পর্কিত