লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী কয়েকটি ইউনিয়নে ইব্রাহিম ডাকাত বাহিনীর কর্মকাণ্ডে আতঙ্কে রয়েছেন প্রায় লক্ষাধিক বাসিন্দা—এমন অভিযোগ তুলে বাহিনীর প্রধান ইব্রাহিম ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের সীমান্তবর্তী বয়ারচর টাংকির ঘাট এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে প্রায় এক হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেন।
অভিযুক্ত মো. ইব্রাহিম নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ঢালচর গ্রামের নুরনবী মাঝির ছেলে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লোকজন অভিযোগ করেন, ইব্রাহিমের নেতৃত্বে সোহেল, আলাউদ্দিন, আমজাদ ও আলতাফসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর সীমান্তবর্তী ঢালচর, চরগাজী, হরনী ও সুখচর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, গরু-মহিষ চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
তাদের অভিযোগ, এসব ঘটনায় চরাঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। ডাকাত দলের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ফখরুলসহ প্রতিবাদী ব্যক্তিদের ভয়ভীতি দেখানো এবং বিভিন্ন মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে বলেও মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়।
বক্তারা বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
এ সময় বয়ারচর এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবিও জানান স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ইব্রাহিম বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্তরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চর আব্দুল্লাহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুমন, সদস্য মহিউদ্দিন এবং ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ফখরউদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।