লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট ও অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার মোট বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ২৬ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯ থেকে ১১ মেগাওয়াট। ফলে দিন-রাতজুড়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে কয়েক লাখ মানুষকে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় অতিরিক্ত লোডশেডিং কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, গত এক মাস ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চরম লোডশেডিং চলছে। অনেক এলাকায় ১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের পর ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। দিনের পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে পৌর শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের। প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা কার্যক্রম ও কৃষি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রায়পুর উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী ২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯ থেকে ১১ মেগাওয়াট। ফলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অসহনীয় লোডশেডিং চলছে। বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঘুম, পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুতের অভাবে পৌর শহরে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহও বিঘ্নিত হচ্ছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত লোডশেডিং বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, “রায়পুর উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অত্যন্ত কম হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। তাই জনস্বার্থে রায়পুরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত লোডশেডিং বন্ধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে রায়পুর বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা মোশারেফ হোসেন বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি উন্নয়নে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি এবং লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন রায়পুরবাসী।