ইউপি নির্বাচন হবে অবাধ ও নিরপেক্ষ: ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব বা বিশেষ সুবিধা থাকবে না। জনগণের ভোট ও ভালোবাসার ভিত্তিতেই চেয়ারম্যান, সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী সদস্যরা নির্বাচিত হবেন।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তৃণমূল জনপ্রতিনিধি ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী বছরের প্রথম দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এ নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। বিএনপি, জামায়াত বা অন্য কোনো দলের পরিচয়ে কেউ অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন না। জনগণের আস্থার ভিত্তিতেই জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত হতে হবে।

তিনি বলেন, প্রকৃত গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো শক্তিশালী স্থানীয় সরকার। স্থানীয় সরকার কার্যকর না হলে রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের কাঠামোও দুর্বল হয়ে পড়ে। উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও স্থানীয় সরকারকে প্রশাসন ও জনসেবায় আরও ক্ষমতাবান করতে হবে।

মন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতে বিভিন্ন অজুহাতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, যথাযথ প্রমাণ ছাড়া কোনো জনপ্রতিনিধিকে অপসারণ করা উচিত নয়। এ বিষয়ে আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যথাযথ ক্ষমতায়ন ছাড়া স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভাতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের বাস্তব সমস্যার বিষয়ে তিনি অবগত। তাদের ভাতা সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন।

ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতি দেশের জন্য কল্যাণকর নয়। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই নীতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. পয়গাম আলী, বাংলাদেশ ইউনিয়ন মেম্বার কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত