গণভোটের ফল বাস্তবায়ন না হলে সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যে গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দিয়েছেন, সেই একই দিনের ভোটে সরকার গঠিত হয়েছে। তাই গণভোট উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে বরিশালে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোট না হলে বর্তমান সরকারকে জনগণ মেনে নেবে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জনগণ সরকারকে বাধ্য করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, হাজার চেষ্টা করেও তারা আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদী হতে পারবে না। তবে ‘ডামি ফ্যাসিবাদ’-এর পথে হাঁটছে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক বিভিন্ন অধ্যাদেশ এখনো বহাল রাখা হয়েছে, যা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পর সরকার সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে। অথচ বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার প্রথম দফাতেই সংবিধান সংস্কারের বিষয়টি উল্লেখ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, সংবিধানে এ ধরনের কমিটির কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের জোরে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে তার পরিণতি ভালো হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ ও গাজীদের সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই স্মৃতি জাদুঘর দ্রুত চালুর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে হরতাল-অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। তিনি অভিযোগ করেন, গণতন্ত্র ও সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, বিরোধী দল সরকারে শত্রু নয়, বরং দেশের সংস্কারের অংশীদার। দেশকে সুশাসনের পথে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।