হাম মহামারিতে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা Muhammad Yunus ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচার দাবিতে ঢাকার আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেছেন একদল আইনজীবী। বুধবার (১৩ মে) বিকেলে মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের একটি অংশ অংশ নেয়। উপস্থিত আইনজীবীরা ড. ইউনূস ও নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভে বক্তারা অভিযোগ করেন, ইউনিসেফের পক্ষ থেকে সতর্ক করার পরও অন্তর্বর্তী সরকার টিকা সংগ্রহের প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তন করে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি চালু করে। তাদের দাবি, এ সিদ্ধান্তের কারণে দেশে হামের টিকার তীব্র সংকট তৈরি হয় এবং এতে শত শত শিশু মারা গেছে।
আয়োজকদের পক্ষে আইনজীবী কায়েস আহমেদ অর্ণব বলেন, “স্বাস্থ্য খাতে অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও নূরজাহান বেগমকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শুধু হাম নয়, অন্যান্য টিকার ক্ষেত্রেও সরকারের চরম গাফিলতি ছিল। এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে কয়েকজন আইনজীবী চোখ ও মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি তদন্তে দ্রুত স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে Amar Bangladesh Party। বুধবার সকালে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান দলটির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
তিনি অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বর্তমানে দুর্নীতির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতি অর্থবছরে বিপুল বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
হামের টিকা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, “বিষয়টি নিয়ে ঢালাওভাবে অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করা ঠিক হবে না। আগের বছরগুলোতে টিকাদানের উচ্চহার দেখানো হয়েছিল। বাস্তবে কোথায় এবং কীভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে, সেটি তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের শেষ বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বরাদ্দ থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকার ১ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দিয়েছে। তার দাবি, বর্তমানে টিকা সরবরাহও নিয়মিত রয়েছে এবং কোনো সংকট নেই।