জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করাকে জাতির প্রতি ‘পবিত্র দায়িত্ব’ বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও নতুন করে যেন কোনো স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুলাই জাগরণ ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের পুরো রক্ত বদলে দিয়ে বাংলাদেশে নতুন রক্ত সঞ্চালিত করতে হবে। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে বিশ্বের ক্যালেন্ডারে একটি নতুন দিন যুক্ত হয়েছিল ‘৩৬ জুলাই’। জুলাইয়ের শুরু থেকে ছাত্রসমাজ অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু করেছিল, তার চূড়ান্ত পরিণতি হয়েছিল ৫ আগস্ট।
পুরো জুলাইয়ের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করতেই ৫ আগস্টকে ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতের আমির বলেন, দেশের ছাত্রসমাজ সবসময় অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে। তরুণ নির্মাতারা তাদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ যেভাবে তুলে ধরেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানস্থলে প্রদর্শিত চিত্রকর্ম ও প্রামাণ্যচিত্রের প্রশংসা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি চিত্রকর্মে স্বৈরাচারের গলায় রশি দিয়ে চারদিক থেকে টানতে দেখা গেছে আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিফ ও নাইমদের। তাদের স্লোগান ছিল, ‘রশি ধরে মারো টান, ফ্যাসিবাদ হবে খান খান’।
তিনি বলেন, জনগণের সেই টানে ফ্যাসিবাদ ভেঙে পড়েছে। ভবিষ্যতে কেউ আবার ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে জনগণ তার প্রয়োজনীয় জবাব দেবে।
হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিচার না হলে ভবিষ্যতে নতুন খুনি ও নতুন ফ্যাসিবাদের জন্ম হতে পারে। তাই জনগণের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং জুলুম-নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করাকে তারা পবিত্র দায়িত্ব মনে করেন।
তিনি বলেন, অতীতের অপরাধের বিচার না হলে দেশে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। এ ধরনের পরিস্থিতি আর দেখতে চায় না দেশের জনগণ।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, গণরায়ের বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদের হুবহু বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। সবাইকে সঠিক পথে ফিরে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে যেভাবে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে জনগণ একইভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। এতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তরুণ নির্মাতারা অংশ নেন।