শোষণমুক্ত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ছবি: বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি নাগরিক সমান সুযোগ-সুবিধা ও উন্নত জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা পাবেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্র নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বাংলাদেশও সেই বাস্তবতার বাইরে নয়। তবে সরকার একটি উদার, বহুত্ববাদী ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। গণতন্ত্রের চর্চা ও বিকাশের মাধ্যমে একটি প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক এবং মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, শিল্প ও কৃষি খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সরকার ইতোমধ্যে কর হ্রাসসহ বিভিন্ন শুল্ক-সুবিধা দিয়েছে। পাশাপাশি সৃজনশীল অর্থনীতি এবং তৃণমূল পর্যায়ের দেশীয় উৎপাদনকে জাতীয় অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সংসদীয় ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কারের লক্ষ্যে একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার বিষয়ে কাজ করবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার একটি ‘রংধনু জাতি’ গঠনের ধারণায় বিশ্বাস করে, যেখানে সব জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। এ লক্ষ্যেই এবার জাতীয় সংসদে সাঁওতাল, মারমা ও চাকমা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং যৌথ উন্নয়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সবসময় নিজেদের অধিকার আদায়ে আপসহীন। জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত