বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে সুন্দর, সুষ্ঠু, সহনশীল ও উদারপন্থী রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। সব রাজনৈতিক দল যেন স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সে সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা চাই সব রাজনৈতিক দল তাদের কাজ করতে পারুক, বক্তব্য রাখতে পারুক এবং জনগণের কাছে যেতে পারুক। জনগণই তাদের পছন্দের দলকে নির্বাচিত করবে।”
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনসাধারণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থনে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছি। দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের এই অঞ্চল অধিকার আদায়, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং কৃষক-ছাত্র আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বহন করে। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীরদের অবদান কখনো ভুলে যাওয়া যাবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিগত সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতনের কারণে নেতাকর্মীরা স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতেও পারেনি। সেই সময়ের কথা আমি ভুলিনি, ভুলতেও পারি না। দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে।”
২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সেই নির্বাচনে আগের রাতেই ভোট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনে কোনো কারচুপি হয়নি। জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।”
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, “এখন বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। জনগণ আপনাদের ওপর আস্থা রেখেছে। সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “মারপিট করে বা জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। যদি তা সম্ভব হতো, তাহলে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকতেন। জনগণের সমর্থনই রাজনৈতিক শক্তির মূল ভিত্তি।”
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ভূল্লী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।