আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, বাংলাদেশে প্রকৃত ইনসাফ ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব কেবল ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমেই। তিনি দাবি করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশই একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা আন্তরিকভাবে ইনসাফ ও ইসলামী নীতি-আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি–কমলনগর) সংসদীয় আসনের কমলনগর উপজেলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহর পক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে চরমোনাই পীর বলেন, “জামায়াত দাবি করে তারা ক্ষমতায় গেলে ইনসাফ কায়েম করবে। আমি তাদের প্রশ্ন করতে চাই—আপনারা কোন ইনসাফ কায়েম করবেন? ভারতের ইনসাফ না আমেরিকার? গোপনে আমেরিকার সঙ্গে বসে যে ইনসাফ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়, সেই ইনসাফ বাংলাদেশের মানুষ চায় না।” তিনি বলেন, আগামী দিনের প্রকৃত ইনসাফের প্রতীক হচ্ছে হাতপাখা।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ গত কয়েক দশকে বিভিন্ন শাসকের শাসন দেখেছে। কিন্তু ক্ষমতায় গেলে সবাই হনুমানের মতো আচরণ করে এবং ইনসাফ ভুলে যায়। অথচ ইসলামের নাম শুনলেই অনেকের ভয় কাজ করে। অথচ ‘ইসলাম’ শব্দের অর্থই শান্তি। আর সেই শান্তির প্রতীক হাতপাখা।
চরমোনাই পীর দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আল্লাহ যদি ইসলামী আন্দোলনকে কবুল করেন, তাহলে ৫৪ বছরের ইতিহাস ৫৪ মাসেও নয়, ৫৪ দিনের মধ্যেই পরিবর্তন হয়ে যাবে—ইনশাআল্লাহ।”
নিজ দলের প্রার্থী সম্পর্কে তিনি বলেন, আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ একজন পরীক্ষিত ও সৎ নেতা। তিনি দুইবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং একবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ নেই। রামগতি ও কমলনগর এলাকায় যদি সত্যিকার অর্থে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তাহলে খালেদ সাইফুল্লাহর কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জনসভায় বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের প্রার্থীকে আপনাদের হাতে তুলে দিয়ে যাচ্ছি। তাকে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠালে তিনি লাঠি নিয়ে সংসদে যাবেন। সেই লাঠি দিয়েই ঘুষ, দুর্নীতি ও অন্যায়ের ভূত তাড়ানো হবে।”
জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম, কমলনগর শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহমান মাহমুদী, জেলা কার্যনির্বাহী সদস্য ও নির্বাচন পরিচালক মুফতী শরীফুল ইসলাম, ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী একেএম আব্দুজ জাহের আরেফী, লক্ষ্মীপুর জেলা ইসলামী যুব আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শোরাফ উদ্দিন স্বপন, মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমানসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক।