না ফেরার দেশে তোফায়েল আহমেদ

স্টাফ রিপোর্টার
আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ। ছবি: দৈনিক নতুনচাঁদ
আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ। ছবি: দৈনিক নতুনচাঁদ

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ আর নেই। সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন তোফায়েল আহমেদ। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ আট মাসের বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মরহুমের প্রথম জানাজা রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে বাদ মাগরিব অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ নিজ জেলা ভোলায় নেওয়া হবে। মঙ্গলবার ভোলা জেলা স্কুল মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

তোফায়েল আহমেদের জন্ম ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তোফায়েল আহমেদ। একই সময়ে রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি প্রদানের ঘটনাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি মুজিব বাহিনীর অন্যতম আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব এবং পরে রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি মোট নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দলটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।

তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

সম্পর্কিত