লক্ষ্মীপুরের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই এক সুপরিচিত ও আলোচিত নাম শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী। তিনবারের সংসদ সদস্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এবং ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই অভিজ্ঞ নেতাকে আসন্ন মন্ত্রিসভায় দেখতে চান জেলার সর্বস্তরের মানুষ। অভিজ্ঞতা, জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার বিবেচনায় এ দাবিকে সময়োপযোগী বলেই মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীর রাজনৈতিক জীবন শুরু ছাত্রদলের মাধ্যমে। তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন।
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসন থেকে তিনি তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সংসদে তার সরব উপস্থিতি, যুক্তিনির্ভর বক্তব্য এবং গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার নিয়ে অবস্থান তাকে একজন দায়িত্বশীল ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত করেছে।
গত দেড় দশকের রাজনৈতিক সংকটকালেও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে একাধিক মামলার শিকার হন এবং একাধিকবার কারাবরণ করেন। তবুও তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাননি। বরং দলের নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজ চালিয়ে গেছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, এই ত্যাগ ও দৃঢ় অবস্থানই তাকে তৃণমূলে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীর সবচেয়ে বড় শক্তি তার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক। স্থানীয়রা বলেন, তিনি শুধু নির্বাচনের সময় নয়, বরং সারা বছরই সাধারণ মানুষের খোঁজখবর রাখেন। অসুস্থতা, মামলা-মোকদ্দমা, পারিবারিক সমস্যা কিংবা সামাজিক বিরোধ, সব ক্ষেত্রেই তাকে পাশে পাওয়া যায়।
স্থানীয় শিক্ষক নুরুল আমিন বলেন,
“এ্যানী একজন প্রকৃত তৃণমূলের নেতা। সুখে-দুঃখে মানুষ তাকে পাশে পায়। তাই আমরা চাই, তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পান।”
ব্যবসায়ী স্বপন কুমার দাস বলেন,
“এ্যানী ভাই মন্ত্রী হলে লক্ষ্মীপুরের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা, শিল্পায়নের ঘাটতি এবং কর্মসংস্থানের সংকট কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।”
তরুণ উদ্যোক্তা মেহেদী হাসানের মতে,
“এ্যানীর হাত ধরে জেলায় শিল্পকারখানা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। এতে তরুণদের বিদেশমুখী প্রবণতা কমবে।”
নারী সংগঠক শামসুন্নাহার বেগম বলেন,
“এ্যানী দায়িত্ব পেলে নারী শিক্ষা, নারী নিরাপত্তা ও সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি নারী বিষয়ক সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখেন।”
লক্ষ্মীপুরবাসীর প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে
-
আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন
-
নদীভাঙন রোধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন
-
শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি
-
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়ন
এলাকাবাসীর বিশ্বাস, অভিজ্ঞ ও জনসম্পৃক্ত নেতা হিসেবে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হলে এসব দাবির বাস্তবায়ন দ্রুততর হবে।
রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, জাতীয় রাজনীতিতে পরীক্ষিত, ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে সরকার পরিচালনায় দক্ষতা বাড়ে। সেই বিবেচনায় শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা শুধু লক্ষ্মীপুর নয়, জাতীয় রাজনীতির জন্যও ইতিবাচক হবে।
সব মিলিয়ে লক্ষ্মীপুরবাসীর কণ্ঠে এখন একটাই প্রত্যাশা, অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তার প্রতীক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী যেন মন্ত্রিসভায় স্থান পান এবং জেলার উন্নয়নের নতুন অধ্যায় সূচনা করেন।