মাত্র পাঁচ মাসে দেশে সহিংসতার শিকার হয়েছে ১ হাজার ৩৫ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার ২৫০ জন, দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ৬৫ জন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৮ জনকে।
এ সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ২৩৭ জন নারী ও কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে এবং আত্মহত্যা করেছেন ৬০ জন। এসব পরিসংখ্যান দেশের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নারীর অগ্রগতি ও ক্ষমতায়নের আলোচনার পাশাপাশি ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, সাইবার বুলিং এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই প্রেক্ষাপটে শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র, বিচারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিরোধের উপায় নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক, বিচারপতি, শিক্ষাবিদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও অধিকারকর্মীরা মতবিনিময় করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, নারী ও শিশু সুরক্ষায় আইন থাকলেও কার্যকর প্রয়োগ ও সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার সম্প্রসারণ এবং সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সাবেক বিচারপতি, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মীরা বলেন, সামাজিক বৈষম্য, বিচারহীনতা, মাদকাসক্তি এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার সহিংসতা বাড়াচ্ছে। তারা শিক্ষা, সচেতনতা এবং আইনের সঠিক প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন এখন জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।