দেশের সামনে অত্যন্ত কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই সময় হেলাফেলা করে কাটিয়ে দিলে শুধু ব্যক্তি নয়, দেশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
রোববার (৩১ মে) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান তার পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে শহীদ জিয়াউর রহমান একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত ও ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশ পেয়েছিলেন। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম, সততা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে তিনি অল্প সময়ের মধ্যে দেশের দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলের পর দলীয় ইশতেহার আর শুধু বিএনপির পরিকল্পনা হিসেবে থাকেনি, এটি দেশের অধিকাংশ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলনে পরিণত হয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচন ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব খাত পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।
তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে শহীদ জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি, শিক্ষার প্রসার এবং শিল্পোন্নয়নের নানা পরিকল্পনার প্রতিফলন রয়েছে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের প্রচেষ্টায় সরকারের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে মাঠে থেকে সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ, পরিশ্রম ও সংগ্রামের ফলেই দল নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে। তবে বিজয় অর্জনই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।