সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠানে শর্ত প্রত্যাখ্যান করে নির্ধারিত সময়েই আয়োজনের দাবিতে দেওয়া স্মারকলিপি থেকে নাম প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন চারজন প্রার্থী। বুধবার রাত ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ।
নাম প্রত্যাহারের আবেদন করা চার প্রার্থী হলেন ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেল ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’-এর সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ, ধর্ম ও সম্প্রীতি সম্পাদক প্রার্থী তাজুল ইসলাম, সদস্য প্রার্থী আফফান এবং স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মুমিনুর রশীদ (শুভ)।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে দুইজন ভিপি প্রার্থী স্মারকলিপি থেকে নাম প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। এর আগে আরও দুইজন আবেদন করেন। সব আবেদন আমরা রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।’
এর আগে সকাল ১১টা থেকে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, স্বতন্ত্র প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পূর্বনির্ধারিত তারিখেই শাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন। এতে ছাত্রদল–সমর্থিত ভিপি প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ, ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেল ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’-এর ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান, স্বতন্ত্র প্যানেল ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’-এর ভিপি প্রার্থী মুহয়ী শারদ এবং স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মুমিনুর রশীদের স্বাক্ষর ছিল। বিকেল চারটার দিকে তাঁরা নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। তিন ঘণ্টা পর চার প্রার্থী স্মারকলিপি থেকে নাম প্রত্যাহারের আবেদন করেন।
ভিপি প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ তাঁর প্রত্যাহার আবেদনে উল্লেখ করেন, স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরের পর তাঁর মনে হয়েছে, এটি ব্যবহার করে তাঁদের আবারও ‘বলির পাঁঠা’ বানানোর চেষ্টা হতে পারে। এ কারণে স্বজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় তিনি তাঁর স্বাক্ষর প্রত্যাহার করেছেন।
মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, স্মারকলিপি দেওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত অঙ্গীকারনামা নির্বাচন কমিশনে পাঠাচ্ছে না। পাশাপাশি চিঠির জবাব পেতে দেরি হলে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসবে এবং অনেক প্রার্থী প্রচারণায় নামেননি। এ ছাড়া স্মারকলিপিতে থাকা স্বাক্ষর ভিন্নভাবে ব্যবহারের আশঙ্কাও রয়েছে।
স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মুমিনুর রশীদ তাঁর প্রত্যাহারপত্রে উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্মারকলিপির মাধ্যমে তাঁদের আগের মতো বিপদে ফেলার অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাঁর মনে হয়েছে।
মুমিনুর রশীদ বলেন, শাকসু নির্বাচন আয়োজন না করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নানাভাবে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শাকসু নির্বাচন নির্ধারণ করায় যদি ২০ জানুয়ারি কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তার দায় তাঁদের ওপর চাপানো হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী ও সহ-উপাচার্য মো. সাজেদুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সহ-উপাচার্য সাজেদুল করিম পরে খুদে বার্তায় জানান, তিনি বৈঠকে আছেন।
এর আগে বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে দেওয়া স্মারকলিপিতে বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা বা মুচলেকা চাওয়া সম্মানজনক নয়। তাঁরা নতুন কোনো শর্ত ছাড়াই আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান।