নির্বাচন ঘিরে সাত দিন দেশজুড়ে নিবিড় টহল

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ছবি:
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ছবি:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সারাদেশে টানা সাত দিন নিবিড় নিরাপত্তা টহল চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ভোটের আগে চার দিন এবং ভোটের পর দুই দিন—সব মিলিয়ে এক সপ্তাহ মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এতে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে মোট প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর এক লাখ, পুলিশের দেড় লাখ এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় পৌনে ছয় লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭০০, বিজিবির ৩৭ হাজারের বেশি, কোস্টগার্ডের সাড়ে ৩ হাজার, র‍্যাবের ৭ হাজার ৭০০ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৩ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে।

নির্বাচন উপলক্ষে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮ হাজার ৭৮০টিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৬ হাজার ৫৪৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৭ হাজার ৪৩৩টি। ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৫ হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ হাজার ক্যামেরা ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে।

সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তারা নিজ নিজ বাজেটে সিসিটিভি স্থাপনের ব্যবস্থা করবেন। ঢাকা শহরে এ দায়িত্ব পালন করবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

নির্বাচনের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনী ড্রোন পরিচালনা করবে। এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামে ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের পাশাপাশি বিজিবি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৫০টি ডগ স্কোয়াড মাঠে নামাবে।

দুর্গম ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবহনে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য রোধে বিটিআরসি, এনটিএমসি এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

সাবেক নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য মো. আবদুল আলীম বলেন, বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বডি ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের ফলে অনিয়মকারীরা নিরুৎসাহিত হবে। তবে শুধু উপস্থিতি নয়, কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পর্কিত