আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) ৯ জিলহজ, পবিত্র হজের প্রধান আনুষ্ঠানিকতার দিন। মক্কা, মিনা ও আরাফাতের আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে উঠেছে লাখো হাজির ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে।
এর আগে সোমবার (৮ জিলহজ) তাঁবুর শহর মিনায় দিন ও রাত ইবাদত-বন্দেগিতে কাটান আল্লাহর মেহমানরা। মঙ্গলবার ফজরের নামাজের পর বিশেষ বাস ও ট্রেনযোগে হাজিরা ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হন। এবার হজযাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রায় ২৪ হাজার বাস নিয়োজিত করেছে।
আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে হজের মূল খুতবা পাঠ করা হবে। এ বছর খুতবা দেবেন মসজিদুল হারামের সম্মানিত ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি।
বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুবিধার্থে খুতবা বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় সরাসরি অনুবাদ করে সম্প্রচার করা হচ্ছে।
খুতবা শেষে হাজিরা এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে গুনাহ মাফের আশায় মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করবেন তারা।
সূর্যাস্তের পর হাজিরা মাগরিবের নামাজ আদায় না করে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কংকর সংগ্রহ করবেন।
আগামীকাল (১০ জিলহজ) বড় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা এবং কাবা শরিফে তাওয়াফে জিয়ারত সম্পন্ন করবেন হাজিরা।
পরবর্তী দিনগুলোতেও মিনায় অবস্থান করে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের আনুষ্ঠানিকতা পালন করবেন তারা। বিদায়ী তাওয়াফের মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা।
এদিকে সৌদি আরবে সোমবার গড় তাপমাত্রা ছিল ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র গরমে হাজিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ৪০টির বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখ কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, ড্রোন ক্যামেরা এবং তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।
এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজারের বেশি হজযাত্রী পবিত্র হজ পালন করতে সৌদি আরবে গেছেন। বাংলাদেশি হাজিদের জন্য মিনা ও আরাফাতে বিশেষ আবাসন, চিকিৎসাসেবা এবং বাংলাদেশ হজ মিশনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।