নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা যাচাই এবং নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি-৭১) নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত সম্প্রসারণ এবং নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনশক্তি রপ্তানির ভিত্তি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের আমলে এ খাত আরও সম্প্রসারিত হয়। ২০০১ সালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশের ১৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং ছয়টি মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে ৫৫টি ট্রেডের ১৩০টি পেশায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ৯টি বিদেশি ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা রয়েছে এবং ৫০টি উপজেলায় নতুন কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এক লাখ দক্ষ চালক তৈরির প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের জন্য ‘ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম’ চালু করা হয়েছে।
সৌদি আরবের তাকামুলের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ৭৯টি পেশায় স্কিল টেস্ট পরিচালিত হচ্ছে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি ভাষা শিক্ষা গ্রহণকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ এবং সাধারণ প্রবাসীদের জন্য ৮ শতাংশ সুদে জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা রয়েছে।
কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওমান, মালয়েশিয়া ও বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার পুনরায় চালু ও সম্প্রসারণে কাজ চলছে। সম্ভাবনাময় ২৮টি শ্রমবাজারের মধ্যে ১৮টি দেশের সঙ্গে ইতোমধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
ইউরোপীয় শ্রমবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া ও গ্রিসসহ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা থাকলেও ভিসা জটিলতার কারণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এসব দেশের সঙ্গে কনস্যুলার সেবা সহজ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।