যুদ্ধ ফের শুরু হলে প্রস্তুত ইরান: আরাঘচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
 ছবি: ইরানের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র।
ছবি: ইরানের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র।

ইরানর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে ফিরতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, সাধারণ মার্কিন পরিবারগুলোকেও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

শনিবার (১৬ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান খরচ শেষ পর্যন্ত মার্কিন জনগণকেই বহন করতে হবে। পোস্টটির সঙ্গে তিনি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের বাড়তে থাকা সুদের হারের একটি চিত্রও প্রকাশ করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এ প্রণালি দিয়ে হয়ে থাকে।

আরাঘচি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি মার্কিন ঋণ ও গৃহঋণের সুদের হারও বাড়ছে। গাড়ির ঋণ খেলাপির হার ইতোমধ্যে গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে ইরানি পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও যুদ্ধের আর্থিক চাপ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে একটি “অভিনয়ধর্মী যুদ্ধ” পরিচালনা করা বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ৩০ বছর মেয়াদি ২৫ বিলিয়ন ডলারের বন্ড পাঁচ শতাংশ সুদে বিক্রির পর এ আলোচনা সামনে আসে। একই সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও প্রায় এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ অন্যতম অচলাবস্থার বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। ইরান এ জলপথের ওপর নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি চাইলেও উপসাগরীয় দেশগুলো একে আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে বিবেচনা করছে।

ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান এব্রাহিম আজিজি জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি পেশাদার ব্যবস্থা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

সম্পর্কিত