ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে ভারতের লোকসভায় উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার অবস্থান, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে তিনি দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিংবা কোনো আন্তর্জাতিক সমঝোতার মাধ্যমে তার ফেরার পথ তৈরি হচ্ছে—এমন দাবিও প্রচার করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ভারতে অবস্থান করে তিনি আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে ভারতের লোকসভায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে শেখ হাসিনার অবস্থান ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সংসদীয় কমিটি তাদের প্রতিবেদন লোকসভায় উপস্থাপন করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। চরম সংকট বা অস্তিত্বের হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার ভারতের মানবিক ঐতিহ্য ও সভ্যতাগত মূল্যবোধের অংশ হিসেবে তাকে ভারতে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার দীর্ঘদিনের নীতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ভারত সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ বা ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর তাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধের অগ্রগতি নিয়েও সংসদীয় কমিটি সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিল।
এ বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যমান আইন ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে।