ঢাকার সাভারে একে একে ছয়টি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মশিউর রহমান ওরফে সম্রাট (৪০) গ্রেপ্তারের পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে দেশের আলোচিত সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর নাম। প্রায় ১৭ বছর আগে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে একের পর এক নারী হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিলেন তিনি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ঢাকার অদূরে সাভারের পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও আশপাশের এলাকা থেকে গত ছয় মাসে উদ্ধার হওয়া ছয়টি লাশের ঘটনায় মশিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। এ ঘটনার পরই স্মরণে আসে রসু খাঁর ভয়াবহ সিরিয়াল হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস।
২০০৯ সালে গ্রেপ্তারের পর পুলিশকে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে রসু খাঁ দাবি করেছিলেন, প্রেমের অভিনয় করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অন্তত ১১ নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন তিনি। নিহতদের সবাই ছিলেন ১৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সী পোশাকশ্রমিক। চাঁদপুর, ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর এলাকায় এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে।
চাঁদপুরের আলোচিত পারভীন হত্যা মামলায় ২০১৮ সালের ৬ মার্চ বিচারিক আদালত রসু খাঁসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে দুই বছর আগে হাইকোর্ট রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেও তাঁর ভাগনে জহিরুল ইসলাম ও সহযোগী মো. ইউনুছের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বর্তমানে রসু খাঁ গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির আসামিদের সেলে বন্দি রয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে তাঁর ফাঁসির রায় এখনো কার্যকর হয়নি এবং সর্বোচ্চ আদালতে লিভ টু আপিল বিচারাধীন রয়েছে।
রসু খাঁর ভয়াবহ অতীতের সঙ্গে সাভারের সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এই মামলার তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে।