দুই তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ছয়জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় চার বছর আগে দুই তরুণীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ছয় যুবককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রাহুল (২৩), মো. ডায়মন্ড (২০), আফসার উদ্দিন অনিম (২২), পারভেজ হক পলাশ (২৫), মিনহাজ ওরফে মিনহাজ আবেদীন (২১) এবং মিনহাজ ওরফে বাবু ওরফে মিনহাজ বাবু (২৪)।

সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম জর্জ জানান, আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় এবং তা ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবারের কাছে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে রাহুল পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর উপস্থিত অন্য আসামিদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৫ জুন বিকেলে দুই তরুণী ও তাদের কয়েকজন বন্ধু এক বন্ধুর জন্মদিন উদযাপন করতে ঘুরতে বের হন। রাত পৌনে ১০টার দিকে তারা কেরানীগঞ্জের পানকৌড়ি রেস্তোরাঁয় যান। খাওয়া-দাওয়া শেষে বাড়ি ফেরার জন্য শুভাঢ্যা এলাকায় অটোরিকশা খুঁজছিলেন তারা।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় একটি অটোমিশুক নিয়ে আসামিরা তাদের পথরোধ করেন। পরে দুই তরুণীর বন্ধুদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর দুই তরুণীকে রতনের খামার নামের একটি অন্ধকার মাঠে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার ভিডিও ধারণ করে দুই তরুণীর মুঠোফোনও নিয়ে যায় আসামিরা। পরে তাদের বন্ধুরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই তরুণীকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় এক তরুণীর বাবা ২০২২ সালের ২৯ জুন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার পর র‍্যাব মিনহাজ আবেদীনকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে এক তরুণীর মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। ওই মুঠোফোনে দুই তরুণীর ধর্ষণের ভিডিও পাওয়া যায় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত শেষে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক শরজিৎ কুমার ঘোষ ছয় যুবককে অভিযুক্ত করে ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ছয় আসামির বিরুদ্ধে আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়।

সম্পর্কিত