আট বছর আগে রাজধানীর পান্থপথে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আবদুল হালিম গত ৫ জানুয়ারি এ আদেশ দেন।
রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী সুব্রত দেবনাথ রানা। তিনি জানান, ২০১৭ সালে মামলাটি দায়ের হলেও অভিযোগ গঠন করা হয় ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় মামলার বাদী ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ আর কোনো সাক্ষী হাজির করতে ব্যর্থ হয়।
আসামিপক্ষ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৫ (এইচ) ধারায় দরখাস্ত দাখিল করে অভিযোগ করে, তৎকালীন সরকারের সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই মামলাটি করা হয়েছিল। আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, মামলার নথি ও উপস্থাপিত তথ্য পর্যালোচনায় অভিযোগের সত্যতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।
আদালত আরও বলেন, নথি অনুযায়ী আসামিরা সবাই তৎকালীন সরকারবিরোধী রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধী মত দমনে অহেতুক মামলা দেওয়ার নজির রয়েছে। আলোচ্য মামলাটিও সেই প্রেক্ষাপটে দায়ের হয়েছে বলে আদালতের বিশ্বাস।
খালাসপ্রাপ্ত ১১ আসামি হলেন—তাজরিম খানম, নও মুসলিম আবদুল্লাহ, নাজমুল হাসান মামুন, আবদুল্লাহ আইচান, মো. কামরুল ইসলাম, আকরাম হোসেন খান, তারেক মোহাম্মদ আদনান, তানভীর ইয়াছির করিম, সাদিয়া হোসনা, আবুল কাশেম ফকির ও হুমায়রা জাকির নাবিলা। অভিযোগপত্রে তাঁদের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট শোক দিবসকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়। ওই দিন রাতে পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল ঘেরাও করে। ১৬ আগস্ট সকালে অভিযানের সময় সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিহত হন।
এই ঘটনায় কলাবাগান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিলেও শেষ পর্যন্ত ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। দীর্ঘ বিচার শেষে আদালত সব আসামিকে বেকসুর খালাস দেন।