জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মোট পাঁচ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী হোসনে আরা ও মোনায়েম নবী শাহীন।
এর আগে গত ৮ মার্চ বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ চার মামলায় জামিন দেন। পরে ১১ মার্চ দুদকের মামলাতেও জামিন পান তিনি।
এই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এ মামলার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়। এছাড়া একই অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও বন্দর থানায় পৃথক দুটি মামলা রয়েছে।
প্লট জালিয়াতি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে দুদকও তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করে।
এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করে জামিন মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এ বি এম খায়রুল হক এবং একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। পরবর্তীতে তিনি একাধিকবার আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।