মানি চেঞ্জারদের মাধ্যমে পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মাশুল ৩০০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে বিদেশগামী যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ বন্ধ হলো এবং ব্যাংক ও মানি চেঞ্জার—দুই ক্ষেত্রেই সেবামূল্যে সমতা নিশ্চিত হলো।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ (এফইপিডি) এ–সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, এর আগে গত বছরের মে মাসে ব্যাংকগুলোর জন্য একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এবার তা মানি চেঞ্জারদের ক্ষেত্রেও কার্যকর করা হলো।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জাররা বিদেশে গমনকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের বার্ষিক ভ্রমণ কোটার বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা, নোট, কয়েন ও ট্রাভেলার্স চেক (টিসি) বিক্রি করতে পারবে। প্রতিটি বিক্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট যাত্রীর পাসপোর্ট ও বিমান টিকিটে যথাযথভাবে এনডোর্সমেন্ট করা বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে অনুমোদিত ব্যক্তির সিল ও স্বাক্ষর থাকতে হবে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে খেয়ালখুশিমতো চার্জ আদায় বন্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—এনডোর্সমেন্ট ফি হিসেবে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার বেশি নেওয়া যাবে না, বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ যতই হোক না কেন।
এ ছাড়া প্রতিটি মানি চেঞ্জারকে তাদের প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে এনডোর্সমেন্ট ফি–এর তালিকা টানিয়ে রাখতে হবে। গ্রাহকের কাছ থেকে ফি আদায়ের পর অবশ্যই লিখিত রসিদ দিতে হবে। প্রয়োজনে নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য ফি সংক্রান্ত সব হিসাব ও নথিপত্র সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশগামী যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আরও বাড়বে।