ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরুর মাত্র দুই দিনের মধ্যেই দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ১৬টি ট্রাকে ১০৪ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এতে কয়েক দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
কয়েক দিন আগেও দেশের বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি অব্যাহত থাকলে বাজারে সরবরাহ আরও বাড়বে এবং দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) হিলি স্থলবন্দর ও স্থানীয় বাজার ঘুরে কাঁচা মরিচের দামে এ পরিবর্তনের চিত্র দেখা গেছে।
হিলি বাজারের খুচরা কাঁচা মরিচ বিক্রেতা মোবারক হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে উৎপাদন কমে গিয়ে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয় এবং দাম বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, আগে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২৮০ টাকা দরে বিক্রি করলেও বর্তমানে তা ১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। ভারত থেকে আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বাড়ছে এবং দাম কমতে শুরু করেছে।
হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী কর্মকর্তা মো. উজ্জ্বল হোসেন জানান, সরকার ৭৪ জন আমদানিকারককে মোট ৩৬ হাজার টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে।
তিনি বলেন, গত দুই দিনে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ১৬টি ট্রাকে মোট ১০৪ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে।
বন্দরের আমদানিকারকরা জানান, আমদানি করা কাঁচা মরিচের মান অনুযায়ী পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব মরিচ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে।
তারা জানান, ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি নিয়মিত থাকলে বাজারে সরবরাহ আরও স্বাভাবিক হবে এবং দাম আরও কমে আসবে।
এদিকে দীর্ঘদিন পর কাঁচা মরিচের দাম কমতে শুরু করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। তারা আশা করছেন, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে কাঁচা মরিচের দাম আরও কমবে।