বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের ভয়াবহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি নির্ধারিত ১ হাজার ৩০৬ টাকার সিলিন্ডার খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। কোথাও কোথাও আরও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী ক্রেতারা জানাচ্ছেন, নির্ধারিত দামের কথা বললে অনেক দোকানদার সিলিন্ডার দিতে অস্বীকার করেন। আবার অতিরিক্ত দামে কিনলেও কোনো রসিদ দেওয়া হয় না। খুচরা বিক্রেতাদের ভাষ্য, অতিরিক্ত দাম নেওয়া অবৈধ, তাই রসিদ দিলে প্রমাণ থেকে যাবে।

সিঙ্গেল এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেক দোকানে সিলিন্ডার একেবারেই নেই। সরবরাহ সংকটের কারণে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতারা পাইকারি পর্যায় থেকেই বেশি দামে সিলিন্ডার কিনছেন, তাই সরকারি দামে বিক্রি সম্ভব হচ্ছে না। হাতিরপুলের খুচরা বিক্রেতা রমজান বলেন, “সিলিন্ডার তো পাওয়াই যাচ্ছে না, পাই কয়েকটা কিনলে সেগুলোকে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হয়।”

ঢাকার অদূরে টঙ্গীর ব্যবসায়ী মিঠু বলেন,

“গত সপ্তাহে সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন দোকান একেবারেই খালি। মহাজন না দিলে কোথা থেকে পাবো?” ধানমন্ডির বাসিন্দা মোবারক হোসেনও অভিযোগ করেন, “গতকাল ২ হাজার ৬০০ টাকায় সিলিন্ডার কিনেছি, রসিদ চাইলেও দেওয়া হয়নি।”

সরকারি পদক্ষেপ হিসেবে, দেশে চলমান সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, বিপিসিকে সরকারিভাবে আমদানি প্রক্রিয়া শুরুর জন্য মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

ফাওজুল কবির খান বলেন,

দেশের এলপিজি বাজার পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর। সংকট বা কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি হলে সরকারের হাতে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের যথেষ্ট হাতিয়ার থাকে না। তাই বিপিসিকে এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হলো।

সম্পর্কিত