প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন,
বাংলাদেশের অর্থনীতি কার্যত ধসে গেছে এবং এটি নতুন করে বলার কিছু নেই। তিনি বলেন, কর-জিডিপি অনুপাত বর্তমানে তলানিতে নেমে এসেছে এবং সরকার একটি দুর্বল অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান-সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ড. তিতুমীর বলেন,
অতীতে রাজস্ব আয়ের হিসাব কাগজে-কলমে বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে, যার সঙ্গে বাস্তব আদায়ের মিল ছিল না। লুটপাট ও গোষ্ঠীতন্ত্রের কারণে কর-জিডিপি হার দীর্ঘদিন ধরে নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে এই হার ৭ শতাংশেরও নিচে, যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিম এশিয়া ও ইরান-কেন্দ্রিক সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
কর আহরণ বাড়াতে ডিজিটাল সংস্কার ও অটোমেশন জোরদারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আইবাস প্লাস সিস্টেম শক্তিশালী করার মাধ্যমে কর ফাঁকি কমিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, সেবাইত ও বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের জন্যও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কৌশল হিসেবে তিনি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তার মতে, বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়বে, ফলে করহার না বাড়িয়েই রাজস্ব আয় বৃদ্ধি সম্ভব হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন,
এনবিআরের ভ্যাট, শুল্ক ও আয়কর—এই তিনটি খাতে আগামী তিন মাসে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি রাজস্ব আদায় হবে।
এছাড়া সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।