লক্ষ্মীপুর, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (বাসস): পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, নদী, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বৃদ্ধি করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষি সেচ নিশ্চিত করা এবং মৎস্য উৎপাদন বাড়ানো হবে।
শনিবার লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের রাজাপুর-দেবীনগর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন, চাষাবাদ বৃদ্ধি এবং পরিবেশ রক্ষায় খাল খনন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। রাজাপুর-দেবীনগর খাল পুনঃখনন করা হলে এর দুই তীরবর্তী জনগণ সেচ সুবিধা পাবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমবে। একইসঙ্গে খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, খাল খনন কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খননের মাধ্যমে কৃষিতে যে অগ্রগতি এনেছিলেন, বর্তমানেও সেই ধারাবাহিকতায় নতুন করে কৃষি বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৫৪ জেলায় কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ৯ কিলোমিটার রাজাপুর-দেবীনগর খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে।
এছাড়া সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে মরা মেঘনা থেকে চর মার্টিন পর্যন্ত ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬ দশমিক ৬২ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজও উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।
জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসেন মো. রায়হান কাজমী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি প্রমুখ।