কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলে বোরো মৌসুম শুরুর আগে বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) থেকে সরবরাহ করা ব্রি-ধান ৮৮ জাতের বীজে মিশ্রণের অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে একই জমিতে ভিন্ন ভিন্ন জাতের ধান উৎপাদিত হচ্ছে।
জেলার করিমগঞ্জ, তাড়াইল, ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও বাজিতপুর উপজেলার হাওরজুড়ে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে করিমগঞ্জ ও ইটনা এলাকায় পরিস্থিতি বেশি গুরুতর।
কৃষকরা জানান, একই গুচ্ছে কোনো ধান পেকে গেছে, কোনোটি আধা পাকা, আবার কোনো গাছে এখনো শিষই বের হয়নি। এতে ধান কাটতে গিয়ে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। পাকা ধান কাটলে কাঁচা ধান নষ্ট হচ্ছে, আবার অপেক্ষা করলে পাকা ধান ঝরে যাচ্ছে।
করিমগঞ্জের বড়হাওরের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, ১৩ কানি জমিতে ব্রি-ধান ৮৮ আবাদ করলেও তার অর্ধেক জমিতেও এ জাতের ধান নেই। বাকি জমিতে চার-পাঁচ জাতের ধান দেখা যাচ্ছে। এতে তার বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন খয়রত গ্রামের কৃষক ওমর সিদ্দিক, আক্তার মিয়া ও জমির উদ্দিনসহ অনেকেই। তাঁদের দাবি, বিএডিসির সরবরাহ করা বীজেই মিশ্রণ ছিল, যার খেসারত গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা ধারণা দিয়েছেন, জেলার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ হাজার ৫৬০ হেক্টরে ব্রি-ধান ৮৮ আবাদ করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাদিকুর রহমান বলেন, মাঠপর্যায়ে তদন্তে বীজে মিশ্রণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এতে সামগ্রিক উৎপাদনে বড় প্রভাব না পড়লেও অনেক কৃষক ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বিএডিসির উপপরিচালক (বীজ বিপণন) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। কোথা থেকে এই ত্রুটিপূর্ণ বীজ এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো ডিলার বা সরবরাহকারী জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে বিএডিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক পরিবর্তন, চারা রোপণের বয়স, সেচ ও সার ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণেও এমন সমস্যা হতে পারে।
এদিকে বোরো ধান কাটার মৌসুম ঘনিয়ে আসায় কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। অনেকেই ঋণ করে চাষ করায় সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।