শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের পেছনে এক ‘লিডার’-এর হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির নেতারা হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বাধা দেওয়া হলে জাতীয় নির্বাচনেও তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।
শাকসু নির্বাচন স্থগিতে হাইকোর্টের আদেশের প্রতিবাদে আজ সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর শাখা। মিছিলটি শাহবাগ মোড়ে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এর আগে দুপুরে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, শাকসু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে ছাত্রদল ষড়যন্ত্র করছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর ঢাকা মহানগর শাখার মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আবু সাদিক কায়েম নির্বাচন স্থগিতের পেছনে এক ‘লিডার’-এর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের “লিডার” নামে খ্যাত যিনি, তাঁর নির্দেশেই শাকসু নির্বাচন স্থগিত করার অপপ্রয়াস শুরু হয়েছে বলে আমরা শুনেছি।’ একই সঙ্গে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত না করার জন্য ওই ‘লিডার’-এর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সাদিক কায়েম সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর বক্তব্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকেই ইঙ্গিত করে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সময় বিএনপির পোস্টার ও বিলবোর্ডে তারেক রহমানকে ‘লিডার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও তাঁকে এভাবে সম্বোধন করে আসছেন।
‘লিডার’-এর উদ্দেশে আবু সাদিক কায়েম বলেন,
‘আমরা আপনাকে সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি। ফ্যাসিবাদী আমলে আপনি জুলুমের শিকার হয়েছেন। কিন্তু আপনি জালেম হয়ে উঠবেন না।’
শাকসু নির্বাচন বন্ধ থাকলে জাতীয় নির্বাচনে তার প্রভাব পড়বে বলেও হুঁশিয়ারি দেন ডাকসু ভিপি। তিনি বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের পরিণতি দেখিয়ে দেবে। আমরা চাই না ছাত্রসমাজ বনাম রাজনৈতিক শক্তির মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হোক।’
উল্লেখ্য, ২৮ বছর পর আগামীকাল মঙ্গলবার শাকসু নির্বাচনের ভোট গ্রহণের কথা ছিল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে এই নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ছাত্রদল আপত্তি জানিয়ে আসছিল। এর প্রতিবাদে গতকাল ও আজ ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবন ঘেরাও কর্মসূচিও পালন করে সংগঠনটি। এর মধ্যেই একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন।
আদালতের আদেশ প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম বলেন,
এই রায়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি ডাকসুসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী সব ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে এই রায় প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন।
সমাবেশে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ বলেন,
‘শাকসু নিয়ে টালবাহানা বন্ধ না করলে আগামীকাল থেকে দেশব্যাপী লাগাতার কর্মসূচি দেওয়া হবে। এমন কর্মসূচি দেওয়া হবে, যাতে দেশ পরিচালনায় হিমশিম খেতে হবে।’
সমাবেশে ডাকসুর এজিএস ও ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. মহিউদ্দিন খান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ।
এদিকে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে আগামীকাল মঙ্গলবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানববন্ধন, বুধবার জেলা সদরে বিক্ষোভ এবং বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগরে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির।