রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে হামলার ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা) জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকে। বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এ সম্মেলনে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলো হলো— হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, জড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার এবং সারা দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাতে শাহবাগ থানায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি মানজুর হোছাঈন মাহি, সাধারণ সম্পাদক ও স্টার নিউজের প্রতিনিধি লিটন ইসলাম, ডেইলি অবজারভারের নাইমুর রহমান ইমন, দেশ রূপান্তরের খালিদ হাসান, ঢাকা ট্রিবিউনের সামশুদ্দৌজা নবাব, ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত, নয়া দিগন্তের হারুন ইসলাম, রাইজিংবিডির সৌরভ ইসলাম, মানবজমিনের আসাদুজ্জামান খানসহ আরও কয়েকজন।
সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, থানার মতো নিরাপদ স্থানে পুলিশের উপস্থিতিতেই সাংবাদিকদের ওপর ‘মব’ তৈরি করে হামলা চালানো হয়েছে, যা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর গুরুতর হস্তক্ষেপ।
তারা আরও বলেন, এর আগের দিনও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে সাংবাদিকদের হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। ফলে এটি একটি পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি পৃথকভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক নেতারা শাহবাগ থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন, হামলার সময় পুলিশের নীরব ভূমিকা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অপেশাদার আচরণের পরিচয় বহন করে।