বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ, প্রধান আসামির যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ে বাকপ্রতিবন্ধী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় প্রধান আসামি মো. আব্দুল মমিনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত রায়ে অর্থদণ্ডের পুরো অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া প্রয়োজন হলে দণ্ডিতের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডিত আব্দুল মমিন রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ী (বগুড়াপাড়া) গ্রামের মৃত জালাল বৈরাগী ওরফে প্রামাণিকের ছেলে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাতে ১৪ বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে বাড়িতে একা রেখে তার মা পাশের বাড়িতে যান। পরে ফিরে এসে তিনি অভিযুক্তকে শিশুটিকে ধর্ষণ করতে দেখেন। বাধা দিতে গেলে অভিযুক্ত তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেন।

স্থানীয়ভাবে বিচার না পেয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার রাণীশংকৈল থানায় মামলা করে। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে সাক্ষ্য, চিকিৎসা প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় আব্দুল মমিনকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

রায়ে আরও বলা হয়, দণ্ডিতের বর্তমান সম্পদ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে অর্জিত সম্পদ থেকেও ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণের দাবিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

একই মামলার অপর আসামি মো. এরশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার পর ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. এনতাজুল হক বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের নির্দেশ নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সম্পর্কিত