খাতুনগঞ্জে শ্রমিকদের জীবনসংগ্রাম, অধিকার এখনো অধরা

স্টাফ রিপোর্টার
খাতুনগঞ্জে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে ব্যস্ত শ্রমিকরা ছবি: সংগৃহীত
খাতুনগঞ্জে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে ব্যস্ত শ্রমিকরা ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশ থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকের ভিড়ে সরগরম থাকে পুরো এলাকা। পণ্য ওঠানো-নামানোর ব্যস্ততায় মুখর এই জনপদের পেছনে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন শত শত শ্রমিক।

এই শ্রমিকদেরই একজন বশির উদ্দিন। প্রায় ৩০ বছর ধরে খাতুনগঞ্জে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ করছেন তিনি। জীবিকার তাগিদে শুরু করা এই পেশাই এখন তার জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে।

ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ভারী বস্তা কাঁধে তুলে কাজ করাই তার নিত্যদিনের রুটিন। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর আর আগের মতো সাড়া দেয় না। তবুও থেমে থাকার সুযোগ নেই, কারণ এই আয়ের ওপরই নির্ভর করছে তার পুরো পরিবার।

বশির উদ্দিন বলেন, ছোটবেলা থেকে এই কাজ করছি। তখন শক্তি ছিল, কষ্টটা তেমন বুঝতাম না। এখন বয়স হয়েছে, শরীর আগের মতো সাড়া দেয় না। একেকটা বস্তা তুলতে গেলে বুক ধড়ফড় করে, তবুও কাজ থামানো যায় না।

একই পেশায় যুক্ত কবির প্রায় ১২ বছর ধরে শ্রম দিচ্ছেন খাতুনগঞ্জে। তিনি জানান, এই কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। কখনো দিন, কখনো রাত—যখন কাজ আসে তখনই ছুটতে হয়। অসুস্থ হলেও ছুটি নিলে আয় বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, পরিবারের জন্যই সবকিছু সহ্য করতে হয়। তবে অন্তত একটি স্থায়ী নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সুবিধা থাকলে কিছুটা স্বস্তি মিলত।

শ্রমিকদের দাবি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়ে গেছে।

শ্রম আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামের দুটি শ্রম আদালতে মোট ৩ হাজার ২৭০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১ম শ্রম আদালতে ২ হাজার ৪২৫টি এবং ২য় শ্রম আদালতে ৮৪৫টি মামলা রয়েছে।

২০২৫ সালে এই দুই আদালতে নতুন করে ৫৩৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ১ম শ্রম আদালতে ৩৫৮টি এবং ২য় শ্রম আদালতে ১৮১টি মামলা দায়ের হয়। নিষ্পত্তির তুলনায় নতুন মামলার সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিচারাধীন মামলার পরিমাণও বেড়েছে।

এ থেকে বোঝা যায়, শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে বিরোধ ও ন্যায্যতার দাবিতে আইনি লড়াই এখনও চলমান রয়েছে।

মে দিবস সামনে এলেই শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে আলোচনা বাড়ে। তবে বাস্তবে সেই অধিকার কতটা নিশ্চিত হচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যাশা, শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বছরের প্রতিটি দিনেই যেন তাদের অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করা হয়।

সম্পর্কিত