মাগরিবের আজানের পর দোকানে তালা দিয়ে বাসায় ফিরেছিলেন আমেনা বেগম। তখনও তিনি জানতেন না, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে তার জীবনের একমাত্র সম্বল।
ছোট ছেলের ফোন পেয়ে তিনি ছুটে যান রাজধানীর পল্লবীর কালশী বস্তিতে। গিয়ে দেখেন, আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে গেছে তার ভাঙারির দোকান। চারদিকে শুধু ধোঁয়া আর মানুষের আহাজারি।
সোমবার (২৫ মে) রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পল্লবীর কালশী বস্তির শত শত ঘর ও দোকান পুড়ে যায়। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বহু পরিবার।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমেনা বেগম বলেন, মাগরিবের আজানের পর বাসায় গিয়েছিলেন। পরে ছেলের ফোন পেয়ে এসে দেখেন সব শেষ হয়ে গেছে। কিছুই বের করতে পারেননি।
একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্লাস্টিক ব্যবসায়ী রহমান। তিনি দাবি করেন, তার দোকানের প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল আগুনে পুড়ে গেছে।
তিনি জানান, নামাজ শেষে ফিরে এসে দেখেন দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তার অভিযোগ, এর আগেও ওই এলাকায় আগুন লাগানোর চেষ্টা হয়েছিল।
অগ্নিকাণ্ডস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কেউ পোড়া জিনিসপত্র খুঁজছেন, কেউ নির্বাক হয়ে বসে আছেন। আবার কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
মুদি দোকানি কুলসুম জানান, ঈদ উপলক্ষে দোকানে নতুন মাল তুলেছিলেন। আগুনে সব পুড়ে গেছে। এখন পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট নেই।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রথম আগুন দেখা যায়। পরে প্লাস্টিক, ভাঙারি ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার জানান, সন্ধ্যা ৭টা ৩২ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
তিনি বলেন, এলাকায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ঘর ও ভাঙারির দোকান রয়েছে এবং প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের বসবাস। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন সদস্য কাজ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক, পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও সহায়তা করেন।
রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
ঈদের আগে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে শত শত পরিবার তাদের শেষ সম্বল হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।