জামালপুরের ইসলামপুর, সরিষাবাড়ী ও মাদারগঞ্জ উপজেলার ২০টি গ্রামের এক হাজারের বেশি মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন। বুধবার সকাল ৯টায় ইসলামপুর উপজেলার রামভদ্রা এলাকায় প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদের নামাজের পাশাপাশি এসব এলাকায় কোরবানির প্রস্তুতি ও পশু কোরবানির কার্যক্রমও পালন করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের রামভদ্রা, রায়েরপাড়া, পশ্চিম নোয়ারপাড়া, সাপধরী ইউনিয়নের পশ্চিম মন্ডলপাড়া, উত্তর সাপধরী ও দক্ষিণ সাপধরী, সরিষাবাড়ী উপজেলার বলারদিয়া, বাউসী, সাতপোয়া, পঞ্চপীর, সাঞ্চারপাড়, পাখাডুবি, বনগ্রাম, বালিয়া, হোসনাবাদ, পাটাবুগা, পুঠিয়ারপাড়, বগারপাড়, কামারপাড়া, কুমারপুর এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার লোটাবর কাজিয়াবাড়ীসহ ২০টি গ্রামে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই এসব গ্রামের বাসিন্দারা সৌদি আরবের ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। তাদের বিশ্বাস, পবিত্র হজ, আরাফার দিন এবং ঈদুল আজহার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। সে কারণে সৌদি আরবের তারিখ অনুসরণ করাকেই তারা অধিক উপযুক্ত মনে করেন।
স্থানীয়রা জানান, সৌদি আরবে চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকেই তারা জিলহজ মাসের হিসাব শুরু করেন এবং সেই অনুযায়ী ঈদুল আজহার দিন নির্ধারণ করেন।
দেওয়ানগঞ্জ থেকে নামাজ আদায় করতে আসা সুলাইমান হোসেন বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করা হচ্ছে জেনে বৃষ্টির মধ্যেও তিনি নামাজে অংশ নিতে এসেছেন। তার মতে, মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে একই দিনে ঈদের আনন্দ উদযাপন হওয়া উচিত।
মুসলিম উম্মাহ জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা হাফেজ আলতাফুর রহমান বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করছেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে এবং মুসল্লিরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।