ইবি অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার হত্যায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা (৩৫) হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করেছেন তার স্বজন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর রেলগেট এলাকায় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা। প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বেলা ১১টায় তারা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে অবস্থান নেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শওকত মো. হাসান ইমাম আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দেন।

গত ৪ মার্চ বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের দপ্তরে আসমা সাদিয়া রুনাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। একই সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় তার স্বামী মুহা. ইমতিয়াজ সুলতান হত্যা মামলা করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিভাগের দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী ফজলুর রহমান এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছেন।

মামলার ২ নম্বর আসামি বিশ্বজিৎ কুমার উম্মুল মোমেনিন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার। এছাড়া ৩ ও ৪ নম্বর আসামি যথাক্রমে সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে ঘটনার দিন থেকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল এবং মঙ্গলবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে রিম্যান্ডের কোনো শুনানি হয়নি। অপর তিন আসামি এখনো গ্রেফতার হয়নি।

বিক্ষোভে আসমার স্বামী ও চার সন্তানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, মামলার আসামি বিশ্বজিৎ ও শ্যাম সুন্দর হাইকোর্টে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, অথচ পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও অসহযোগী হচ্ছে।

ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, “প্রশাসন ফজলুরকে দিয়ে একক সিদ্ধান্তের নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। বিশ্বজিৎ, শ্যাম সুন্দরসহ যাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ আছে, তাঁরা বিভাগের অর্থ তছরুপ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় এখন পর্যন্ত পদক্ষেপ নেয়নি।”

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগ তদন্তাধীন। সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত