শাবি উপাচার্যসহ কর্মকর্তা ১২ ঘণ্টা অবরুদ্ধের পর মুক্ত

স্টাফ রিপোর্টার
শাবি প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থানরত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ছবি: সংগৃহীত
শাবি প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থানরত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ছবি: সংগৃহীত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সহ-উপাচার্য মো. সাজেদুল করিমসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে ১২ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত হন।

এর আগে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী অবরুদ্ধ হন। রাতে আন্দোলনকারীরা তালা খুলে তাদের মুক্ত করেন।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ ২৮ বছর পর আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে দুজন প্রার্থী ও একজন শিক্ষার্থীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট চার সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিত করেন।

নির্বাচন স্থগিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেল, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বেলা তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং নির্বাচনের দাবিতে একের পর এক স্লোগান দেন।

রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠক করে। প্রশাসনের আইনি লড়াই এবং চেম্বার আদালতের সিদ্ধান্তের পরবর্তী দিনের ভোট গ্রহণের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা রাত একটার দিকে কর্মসূচি স্থগিত করেন। তবে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে শাকসু নির্বাচন নিয়ে জরুরি সিন্ডিকেট বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সিন্ডিকেট সদস্য জহির বিন আলম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন চেম্বার আদালতে আপিল করেছে। আদালত আপিলের সময় ও তারিখ জানায়নি।’

অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের হাতে অধ্যাপক মো. আশরাফ উদ্দিন ‘লাঞ্ছিত’ হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সংগঠনের সভাপতি রাহাত জামান ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার বিবৃতিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

সম্পর্কিত