অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এবার কোনো গোঁজামিলের নির্বাচন হবে না।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে জামায়াত নেতারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কয়েকটি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
যেভাবেই হোক আমাদের একটি ভালো নির্বাচন করতেই হবে। নির্বাচনসংক্রান্ত যেকোনো জরুরি তথ্য, অভিযোগ বা মতামত আমাদের জানাবেন। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনের নজরে আনব এবং প্রয়োজনে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরও বলেন,
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। যে যাই বলুক না কেন, এবারের নির্বাচন কোনো গোঁজামিলের নির্বাচন হবে না। এই নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়—এই দায়িত্ব সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলসহ সবার।
নির্বাচনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রগুলোতে দ্রুত সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র জানুয়ারির মধ্যেই সিসি ক্যামেরার আওতায় আসবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য বডি ক্যামেরা থাকবে এবং একটি কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মনিটর করা হবে।
এ ছাড়া নির্বাচনকালে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভূত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। নির্বাচনী অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি হটলাইন নম্বর চালুর কথাও জানান প্রধান উপদেষ্টা।
নির্বাচনে জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন সফল করা এবং দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী নেতারা জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে তারা পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। একই সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তাদের প্রচার কার্যক্রম চলবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচার প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি আইনসম্মত কি না—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত হওয়া হয়েছে যে এতে কোনো আইনগত বাধা নেই। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বই হলো সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।