অলিম্পিক পদকের লক্ষ্যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: আমিনুল

স্টাফ রিপোর্টার
 ছবি: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
ছবি: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে এনে অলিম্পিক পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, এই প্রস্তুতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কয়েক দিন আগে তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, বাংলাদেশ অলিম্পিকে কবে পদক পাবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার কাজ শুরু করেছে। তবে রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়, এ জন্য দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্য থেকে ভবিষ্যতের অলিম্পিয়ান তৈরি করা হবে। এ কর্মসূচির আটটি ইভেন্ট থেকে বাছাই করা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিকেএসপিতে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে।

আমিনুল হক জানান, সাভারের বিকেএসপির পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়ের শাখাগুলোও শক্তিশালী করা হচ্ছে, যাতে খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিতে পারে।

তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে, যারা প্রয়োজনীয় সুযোগের অভাবে নিজেদের বিকশিত করতে পারেনি। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে তারা জাতীয় স্টেডিয়াম, জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্স ও আন্তর্জাতিক মানের ইনডোর স্টেডিয়ামে খেলার সুযোগ পাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ২ মে সিলেট থেকে একযোগে দেশের ৬৪ জেলায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম চলছে। প্রথম আসরের সমাপনী অনুষ্ঠানের আগেই দ্বিতীয় আসরের জন্য ১ জুলাই থেকে অনলাইন নিবন্ধন শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এশিয়ান গেমসের পর আর্চারি, শুটিং, সাঁতার ও বক্সিংয়ের মতো সম্ভাবনাময় খেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। শুধু প্রতিযোগিতার আগে নয়, সারা বছর খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের আওতায় রাখা হবে।

আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও প্রযুক্তি আসক্তি থেকে দূরে রাখা সম্ভব। এ ছাড়া দেশের চার হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণ এবং জেলা শহরের মাঠগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কোনো সরকারি অর্থ ব্যয় ছাড়াই এবং দুর্নীতিমুক্তভাবে বিশ্বকাপ ফুটবল দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশ কবে ফুটবল বিশ্বকাপে খেলবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময় বলা সম্ভব নয়। তবে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু হয়েছে এবং একদিন বাংলাদেশও বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলবে—এ স্বপ্ন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কোনো সরকারি অর্থ ব্যয় ছাড়াই বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সম্প্রচার থেকে সরকারের আয় করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত