আবাসন ভাতার দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি অবরুদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার
আবাসন ভাতার দাবিতে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে অবস্থান করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
আবাসন ভাতার দাবিতে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে অবস্থান করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

আবাসন ভাতার দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের (২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শারমিন প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। সোমবার রাত একটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত টানা ১৩ ঘণ্টা ধরে তাঁরা অবরুদ্ধ ছিলেন।

এর আগে রোববার সকাল ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

এরও আগে সকালে আবাসন ভাতার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি কলা ভবন, শহীদ সাজিদ ভবন ও বিজ্ঞান অনুষদের সামনে দিয়ে প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে অবস্থান নেয়।

রোববার বেলা তিনটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শারমিন। তিনি বলেন, ২০তম ব্যাচ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গৌরবান্বিত ব্যাচ। প্রথম বর্ষে পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি পরিবেশে শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তবে নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রথম কিস্তিতে অন্তর্ভুক্ত করলে ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। কারণ, বর্তমানে চলমান পাঁচটি ব্যাচ অনুযায়ী ১৫তম ব্যাচ বৃত্তির আওতায় পড়বে না, যদিও যমুনা আন্দোলনে তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

কোষাধ্যক্ষ আরও বলেন, কোনো একক সিদ্ধান্তে বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব নয়। কমিটির সবার সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জানা গেছে, ২০তম ব্যাচের একটি প্রতিনিধিদল কোষাধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে।

ইনস্টিটিউট গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন বলেন, সম্পূরক বৃত্তির প্রথম কিস্তিতে ২০তম ব্যাচকে অন্তর্ভুক্ত করাই তাঁদের প্রধান দাবি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি।

সংগীত বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ওয়ালিদ হাসান বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে সম্পূরক বৃত্তির আওতায় আনার কথা। ২০তম ব্যাচকে অন্তর্ভুক্ত করলেও এই হার পূর্ণ হয় না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত উপাচার্যকে ভেতরে অবরুদ্ধ রাখা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সম্পর্কিত